‘নারীবিদ্বেষী’ মন্তব্য করে বিপাকে পান্ডিয়া

নিজস্ব প্রতিবেধক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৯
  • ৯২১ দেখেছেন

জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান কফি উইথ করন শো’তে গিয়েছিলেন ভারতের দুই ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুল। সেই পর্ব প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় বইছে। পান্ডিয়ার কিছু মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যাকে অনেকেই ব্যাখ্যা করছেন ‘নারীবিদ্বেষী’ ও অশালীন বলে।

ঘটনা উত্তাপ ছড়াতেই বুধবার ইনস্টাগ্রামে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন পান্ডিয়া। পুরো ঘটনাটা ভালোভাবে নেয়নি ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআইও। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের পক্ষ থেকে দুই ক্রিকেটারকেই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়। দুজনকে দুই ওয়ানডে ম্যাচে নিষিদ্ধ করার সুপারিশও করেছে ওই কমিটি।

কমিটির চাওয়া মতো শোকজের জবাব দিয়েছেন পান্ডিয়া। শো’তে পান্ডিয়া বলেছিলেন, একবার বাবা-মায়ের সঙ্গে পার্টি করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোন এক নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বাবা মায়ের কাছে জানান এবং সেই মেয়েকে দেখিয়ে বলেন, এই মেয়েটিই সেই মেয়ে।

তার পরের কথাতেই তোলপাড় আরও বেড়ে যায়। তিনি নাকি বাবা-মাকে জানান, কীভাবে তিনি প্রথম কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

সেখানে আরও বলেছেন, কত মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়েছে এবং সেইসব নিয়ে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে কতটা স্বচ্ছন্দ। এও বলেছেন, মেয়েদের হাঁটা-চলা দেখতে ভালোবাসেন। যা নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভারতীয় ক্রিকেটপাড়া।

ভারতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা পিটিআই’র খবর অনুযায়ী পান্ডিয়া শোকজের জবাবে লিখেছেন, ‘আমি একটি চ্যাট শোতে গিয়ে বেশকিছু মন্তব্য করেছি এটা না বুঝে যে, সেটা কাউকে অসম্মান করতে পারে এবং এতটা সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে দর্শকদের জন্য। আমি হৃদয় থেকে ক্ষমা চাইছি।’

এরসঙ্গে জুড়ে দেন, ‘আমি এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, এর পেছনে কাউকে অসম্মান করা বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। আমি এই মন্তব্য করে ফেলেছিলাম শোয়ের চরিত্রের সঙ্গে ভেসে গিয়ে। ধারনাই ছিল না যে আমার মন্তব্য এতটা খারাপ প্রভাব ফেলবে।’

এমুহূর্তে ভারতীয় দলের সঙ্গে সিডনিতে রয়েছেন পান্ডিয়া। এমন ঘটনা আর হবে না বলেই জানিয়েছেন, ‘বিসিসিআই’র প্রতি সম্মান রেখেই আমি কথা দিচ্ছি এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর হবে না ভবিষ্যতে।’

ভারতীয় মিডিয়া জানাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের কাছেও নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন পান্ডিয়া। কোচ রবি শাস্ত্রী ও দলের সিনিয়র সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করেছেন।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

টাকা নিয়ে দলে নির্বাচনের অভিযোগ উঠল সাবেক আইপিএল তারকার বিরুদ্ধে। বেশ কিছু ক্রিকেট সংস্থার কর্মকর্তা নজরদারিতে রয়েছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্ৰতিবেদন অনুযায়ী, সিকে নাইডু ট্রফিতে হিমাচল প্ৰদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক ক্রিকেটারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইপিএল তারকা ও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে।

উত্তর প্রদেশের আনশুল রাজ নামের এক ক্রিকেটার এমন অভিযোগ করেন।  অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় সরাসরি অভিযুক্ত গুরুগ্রামের এক করপোরেট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের প্রেসিডেন্ট আশুতোষ বোরা।

দিল্লি, অরুণাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ক্রিকেট সংস্থা এবং বিহার টি১০ ক্রিকেট আয়োজকদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- করপোরেট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের প্রেসিডেন্ট আশুতোষ বোরা ও সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর তার বোন চিত্রাকে ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ গ্রেফতার করে।

এমন অভিযোগ নিয়ে আনশুল জানান, সিকিম দলের সুযোগ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তাকে। তবে শেষপর্যন্ত উত্তর প্রদেশ ক্রিকেটার বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

আনশুল রাজের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে- দরিদ্র সাধারণ পরিবারের হলেও দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন আমার বহুদিনের। অভিযুক্তরা আমাকে কার্যত ফকির করে দিয়েছে। ওদের বিরুদ্ধে যেন মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দিল্লির হয়ে বহুদিন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা জাভেদ খানকে সেই সংস্থার মুখ্য হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্কোয়াডেও এক সময় ছিলেন জাভেদ খান।

টাকা দিলেই দলে সুযোগ!

LifePharm